ইন্টারনেট আবিষ্কারের ইতিহাস

আন্তর্জাল বা ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু ১৯৯০ সাল থেকে অবশ্য ১৯৬৯ সাল থেকে এর প্রকৃত যাত্রা শুরু ।

টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদানের প্রযুক্তিকে বলা হয় ইন্টারনেট । ইন্টারনেট এর শব্দগত বিশ্লেষণ করলে তাকে International Network এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পাওয়া যায় ।

ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হলেও এর প্রকৃত যাত্রা আরম্ভ হয় ১৯৬৯ সাল থেকে । যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সে বছর  Advance Resecarch Projects (ARPAnet)  চালু করে। এটি কম্পিউটার নেটওয়াক জগতে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ।

ইন্টারনেটর ইতিহাস

১৯৯০ সালে ইন্টারনেট শব্দটি ব্যবহত হয় এবং তা ব্যাপকভাবে পরিচিত হতে থাকে ।বতমানে ইন্টারনেট ব্যবহারে শীষ দেশ চীন।যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্হানে।

প্রোটোকল (Protocol)

কমিউনিকেশন সিস্টেমে কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ডিভাইস বা কম্পিউটারের মধ্যে ডেটা ট্রান্সমিট পদ্ধতি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয় । এই নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিই হল প্রোটোকল । এককথায় কম্পিউটার নেটওয়াকের জন্য সুপরিকল্পিত নিধারিত রীতিনীতিই হচ্ছে নেটওয়াক প্রোটোকল ।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের প্রোটোকল তৈরি করেছেন । যেমন – TCP/IP,FTP (file Transfer Protocol),IPX/SPX,NETBEUI,Appletalk,EtherNET ইত্যাদি । এদের মধ্যে ইন্টারনেটে ব্যবহত প্রোটোকল হচ্ছে TCP/IP(Transmission Control Protocol/Internet Protocol)।

ইন্টারনেট সংযোগ নিতে যা যা প্রয়োজন হয়

১)কম্পিউটার- ইন্টারনেট সংযুক্তির জন্য ন্যূনতম ৮০৩০৬ প্রসেসরযুক্ত কোন কম্পিউটার, ৪ মেগাবাইট র‌্যাম এবং অপারেটিং সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রয়োজন হয় ।

২)মডেম- MODEM শব্দটি MOdulator এবং DEModulator শব্দদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ ।মডেম যন্ত্রটি টেলিফোন লাইন এবং কম্পিউটারের মাঝখানে অবস্হান করে ।প্রেরক কম্পিউটারের সাথে যুক্ত মডেম কম্পিউটারের ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে পরিণত করে টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্হার দ্বারা গ্রাহকের নিকট ডেটা এবং তথ্য প্রেরণ করে ।

এভাবে টেলিফোন লাইনের উপযোগী করে ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে পরিবতনের প্রক্রিয়াকে মডুলেশন (Modulation) বলে । গ্রাহক কম্পিউটারের সাথে যুক্ত মডেম সেই অ্যানালগ সংকেতকে আবার ডিজিটাল সংকেতে পরিণত করে ।

এভাবে টেলিফোন লাইন হতে প্রাপ্ত অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে ডিমডুলেশন (Demodulation) বলে । এটি কম্পিউটারের কমিউনিকেশন পোটে সংযুক্ত থাকে ।

৩) টেলিফোন লাইন বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোন নেটওয়াক ।

৪)সফটওয়্যার- ইন্টারনেট ব্যবহার করার উহার কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয় । যেমন: সাভারের সাথে সংযোগ স্হাপনের জন্য সফটওয়্যার,ই-মেইল প্রেরণ বা গ্রহণ করার জন্য সফটওয়্যার ,ইন্টারনেট  ব্রাউজিৎ করার জন্য সফটওয়্যার ইত্যাদি ।

৫) আইএসপি (ISP)

এটি হল Internet Service Provider বা ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী কোন সংস্হা ।তাদের কাজ হল সাধারণ গ্রাহককে ইন্টারনেটের সংযোগ ও এ সংক্রান্ত সকল প্রকার সেবা প্রদান করা ।সাধারণত আইএসপিদের নিজস্ব ASAT এবং সার্ভার থাকে ।

বাংলাদেশে Internet এর সেবাপ্রদানকারী এরূপ কিছু ISP হল আইএসএন,গ্রামীণ সাইবার নেট,ফস্ট নেট ইত্যাদি ।এরা নিদিষ্ট ফির বিনিময়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ঠিকানা প্রদান করে ।

IP ঠিকানা (Internet Protocol Address=IP Address)

টেলিফোনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ফোন সেটের জন্য যেমন একটি নাম্বার থাকে ঠিক তেমনি ইন্টারনেটে প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য একটি আইডেন্টিটি থাকে যা IP (Internet Protocol) অ্যাড্রেস নামে পরিচিত ।

এই ঠিকানাটি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের IANA (Internet Assigned Numbers Authority) নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রদান করে থাকে । বতমানে ইন্টারনেট প্রোটোকল ভাসন ৪ বা IPV4 চালু আছে । IPV4 সিস্টেমে প্রতিটি আইপি অ্যাড্রেসকে প্রকাশের জন্য ৩২ বিট প্রয়োজন । প্রতিটি অকটেট ডট (.) দ্বারা পৃথক করা হয় ।

আইপি অ্যাড্রেসর প্রথম দুটি অকটেট নেটওয়াক আইডি এব পরের দুটি অকটেট  হোস্ট আইডি প্রকাশ করে ।বাইনারি সংখ্যা মনে রাখা অসুবিধাজনক বিধায় এর সমকক্ষ ডেসিমাল ।

ডোমেইন (Domain)

IP Address মনে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য ভ্যাপার । আর  এ কষ্টকর পদ্ধতি সহজ করার জন্য ইন্টারনেট Domain Name System নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় ।  হচ্ছে  এর একটি আলফা নিউমেরিক ঠিকানা ।

সারা বিশ্বের ডোমেইন নেইম বা IP Address যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করে তার নাম InterNIC সকল ডোমেইন ।       

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *