কম্পিউটার সিস্টেম কি এবং এর উপাদান

কম্পিউটার সিস্টেম হলো কতগুলো ইন্টিগ্রেটেড উপাদান যা কিছু উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাজ করে থাকেন।

মডেল হিসাবে একটি মানুষ কল্পনা করুন । মানুষটির অঙ্গ-প্রতঙ্গ হবে হাডওয়্যার আর তার কাযকলাপ বা আচরণ হবে সফটওয়্যারজাত ফলাফল । মূলত সফটওয়্যারের কোন স্পশযোগ্য উপস্হিতি নেই । কিন্তু ফলাফল দ্বারা এর উপস্হিতি লক্ষ্য করা যায় ।

ধরা যাক আপনার মডেলটি হাত নাড়ানো । তার অথ হাত নামক হাডওয়্যারটির সঞ্চালন আপনি দেখলেন ।কিন্তু হাত নাড়ানোর উদ্দীপনা বা নিদেশ কে দিল । এই নিদেশটি এসেছে মানুষের মাথা থেকে ।

মাথার ভিতরে সুস্পষ্টভাবে বিশেষ নিদেশ লিখিত আছে হাত নাড়াতে হলে  কি পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে । আমরা এই নিদেশনা দেখছি না দেখছি তার ফলাফল । আর এই নিদেশনাই হচ্ছে সফটওয়্যার ।

এই ভাবে মানুষের শরীরের সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিস্কে রক্ষিত সফটওয়্যার দ্বারা । এই সফটওয়্যারে  কোন গোলমাল হলে মানুষ অসংলগ্ন আচরণ করতে পারে । তাকে আমরা সহজেই পাগল বলে থাকি ।

আবার মানুষের কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্হ হলে তা হবে হাডওয়্যারগত সমস্যা ।সে সময় মস্তিষ্ক সঠিক নিদেশ পাঠালেও উক্ত অঙ্গ কাজ নাও করতে পারে । সুতরাং সহজেই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে আমাদের মডেল মানুষ হচ্ছে হাডওয়্যার ও সফটওয়্যারের একটি সম্মিলিত ও সমন্বিত রূপ ।

কম্পিউটারের প্রোগ্রাম মানূষ লিখেছে । আর মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী  উদ্ভিদের প্রোগ্রাম প্রকৃতির দ্বারা লিখিত । মাবন শিশুকে আমরা যখন প্রথম লিখাপড়া শিখাই তখন মস্তিস্কে ওই শিক্ষার বিষয়টি লিখা হয়ে যায় ।

দীঘ দিনের ক্রমাগত প্রচেষ্টায় মানুষের মস্তিস্কে একটি এ্যাপ্লিকশান সফটওয়্যারের জন্ম নেয় । যার দ্বারা মানুষ পরবতী সময়ে লিখতে পড়তে পারে । কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এই সফটওয়্যার আলাদা করে লিখে কম্পিউটারের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয় ।

কম্পিউটার নিমাতারা প্রথমে প্রয়োজনীয় যন্তাংশ জুড়ে একটি পুরো কম্পিউটার তৈরি করেন । এরপর এর ভিতরে অপারেটিং সিসটেম প্রবেশ করান । মানুষ এই অপারেটিং সিস্টেম পায় জন্মগত সূত্রে ।

কম্পিউটারে যখন লিখালেখির উপযোগী পরিবেশ আনার জন্য কোন ওয়াড প্রসেসর যুক্ত করা হয় তখন কম্পিউটারে ওয়াডপ্রসেসর নামক  এ্যাপ্লিকেশান সফটওয়্যার প্রবেশ করিয়ে দেয় । কম্পিউটারের ভাষায় একে বলে ইনস্টলেশান ।

মানুষের মাথায় সরাসরি এইরূপ সফটওয়্যার ইনস্টলেশান পদ্ধতি নেই তাই তাকে সব কিছুই ধীরে ধীরে শিখে নিতে হয় । অথাৎ মানুষের মাথায় এ্যাপ্লিকেশান সফটওয়্যারের উন্নয়ন ঘটে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের দ্বারা ।

তা হলে উপরের আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে পুরো কম্পিউটার সিস্টেম হলো দুটি সাব সিস্টেমের সমম্বিতরূপ । একে বলা হয় কম্পিউটার আকিটেকচারের ভাষায় স্তর । কম্পিউটার সিস্টেম প্রধান তিনটি স্তরের সমম্বয়ে গড়ে উঠে । এই স্তর তিনটি হলো –

ক ।  হাডওয়্যার স্তর ।

খ ।  স্মৃতি-স্তর ।

গ ।  সফটওয়্যার স্তর ।

হাডওয়্যার স্তর :- কম্পিউটারের যন্তাংশ নিয়ে এই  সাব সিস্টেম গঠিত । কম্পিউটারের অপর সাব সিস্টেম হলো সফটওয়্যার সিস্টেম । এই দুটি সিস্টেমের সমম্বয়ে কম্পিউটার কাযকরী হয় ।

হাডওয়্যার সামগ্রী স্পশযোগ্য । অথাৎ হাত দিয়ে স্পশ করা যায় । এর মধ্যে কম্পিউটারের সিস্টেম ইউনিট মনিটর,কীবোড,প্রিন্টার,স্ক্যানার এর সবই ধরা হয় । কম্পিউটারের সাথে সম্পকিত এই সকল বড় বড় উপাদানগুলো বিশেষ উদ্দেশ্যে একক ভূমিকা পালন করে ।

কিন্তু এমন কিছু যন্ত্র আছে-যেগুলো সিস্টেমর অংশ কিন্তু পৃথক একটি ইউনিট হিসাবে কাজ করে না । যেমন –একটি ট্র্যানজিস্টার ।

স্মৃতি স্তর :- অত্যাবশ্যকীয় কিছু হাডওয়্যার উপকরণ দিয়ে কম্পিউটার তৈরি করা হয় । কিন্তু কম্পিউটারকে কাজের উপযোগী করার প্রাথমিক পযায়ে কিছু প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয় । এই প্রোগ্রাম রম নামক একটি ডিভাইসে লিখিত থাকে ।

এই প্রোগ্রামকে বলা হয় ফামওয়্যার । এই স্তরটি পার না হলে কম্পিউটারের পরবতী স্তরে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না । এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম হাডডিস্ক ,ফ্লপিডিস্ক,সিডিরম ইত্যাদিতে অস্হায়ী স্মৃতি হিসাবে রক্ষিত হয় ।

সফটওয়্যার স্তর :- কম্পিউটার প্রোগ্রাম বিশেষ ।  এর সাহায্যে কম্পিউটারের যন্তাংকে কাযোপযোগী করা হয় । কম্পিউটারে প্রধানত দুই ধরনের সফটওয়্যার রয়েছে । এর একটি হলো অপারেটিং সফটওয়্যার যেমন :- ডস, উইন্ডোজ, ইউনিক্স ইত্যাদি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *