চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী

সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র সাধারণভাবে মানুষের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

বিশ্ববরেণ্য জাপানী চলচ্চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসা ওয়া তার সম্পকে বলেছিল এই্  পৃথিবীতে বাস করে সত্যজিৎ রায়ের ছবি না দেখে চন্দ্র-সূর্য্য না দেখার মতই অদ্ভুত ঘটনা । রবীন্দ্রনাথের পর বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের অপর কেউই বিশ্বের দরবারে এতখানি সম্মান পাননি ।

ভারতীয় চলচ্চিত্রকে তিনি ‍শুধু যে মযাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাই নয় তাকে এক মহত্তর সৌন্দর্যে উত্তরণ ঘটিয়েছেন । বিরল প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির জন্ম ১৯২১ সালের ২রা মে । কৃতী বংশের যোগ্য উত্তরপুরুষ । সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একমাত্র ঠাকুর পরিবারের সঙ্গেই এই পরিবারের তুলনা করা যায় ।

সত্যজিতের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন বাংলা শিশু সাহিত্যের অন্যতম স্রষ্টা । সাহিত্য ছাড়াও বাংলা ছাপাখানার উন্নতির ক্ষেত্রে তার অবদান বিরাট । ১৯০০ সালে তিনি সুকিয়া স্ট্রীটের বাড়িতে ইউ রায় অ্যান্ড সন্স নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত করেন । এখানে থেকে বহু বই প্রকাশিত হয়েছিল ।

উপেন্দ্রিকিশোরের বড় ভাই সারদারঞ্জন ছিলেন পন্ডিত মানুষ আর ক্রিকেটের ভক্ত । আরেক ভাই কুলদারঞ্জনও  ছিলেন সাহিত্যিক ।তার কন্যা বিখ্যাত সাহিত্যিক লীলা মজুমদার ।  উপেন্দ্রিকিশোরের পুত্র সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালে । মাত্র  আট বছর বয়স থেকেই শুরু হয় তার ছবি আকা কবিতা লেখা ।

১৯১৩ সালে উপেন্দ্রিকিশোর সন্দেশ পত্রিকা চালু করবার পর সুকুমার সেখানে নিয়মিত লিখতেন । ১৯১৪ সালে সুকুমারের বিয়ে হল ঢাকার বিখ্যাত সমাজসেবক কালীনারনয়ণ গুপ্তের নাতনি সুপ্রভার সাথে । বিবাহের ৭ বছর পর জন্ম হয় সত্যজিতের ।

১৯২৩ সাল সত্যজিৎ তখন দু বছরের শিশু,কয়েকদিনের জ্বরে মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে মারা গেলেন সুকুমার । এই স্বল্প জীবনকালেই তিনি রচনা করেছেন আবোল তাবোল হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশুর মত অসাধারণ শিশু সাহিত্য ।সুকুমারের এই অকাল মৃত্যু সংসারের  উপর বিরাট আঘাত নিয়ে এল । কয়েক বছরের মধ্যেই গড়পারের বাড়ি ছেড়ে হল ।

সত্যজিৎ মায়ের সঙ্গে এসে উঠলেন মামার বাড়িতে । পিতা না থাকলেও কোনদিন আথিক কষ্ট পাননি সত্যজিৎ । মামার বাড়িতে থাকার সময়েই  তার সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ তিনি উত্তরধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন পিতা-পিতামহের কাছ থেকে । ১৯৪০ সালে বি.এ.পাশ করলেন সত্যজিৎ ।

রবীন্দ্রনাথ খুবই স্নেহ করতেন সত্যজিৎকে । প্রধানত তারই আগ্রহে ভতি হলেন শান্তিনিকেতনের শিল্প বিভাগে এখানে নন্দনাল বসুর কাছে ছবি আকার তালিম নিতেন ।এক বছর পর তিনি ফিরে এলেন কলকাতায় । বাড়িতে বিধবা মা অন্যের উপর নিভর করে কতদিন জীবনধারণ করবেন ।

১৯৪৩ সালে ডি.জে.কীমার নামে একটি বিজ্ঞাপন সংস্হায় চাকরি করেছেন । যখন তিনি কীমারে চাকরি করতেন সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রের মান ছিল নিতান্তই সাধারণ । প্রথম থেকেই সত্যজিৎতের সাথে পরিচয় হল বংশী চন্দ্রগুপ্ত নামে এক তরুণ শিল্পীর সাথে ।বংশী ছিলেন কাশ্নীরের ছেলে ।

সিনেমার প্রতিও তার ছিল গভীর আগ্রহ । দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল । আমৃত্যু বংশী ছিলেন সত্যজিতের প্রতিটি ছবির শিল্প নিদেশক । দুজনে মিলে স্হির করলেন রবীন্দ্রনাথের ঘরে বাইরে উপন্যাসটিকে সিনেমা করেছিলেন । বিভূতিভূষণের ‍ পথের পাচালী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ।

সিগনেট প্রেস তা বই হিসাবে প্রকাশ করে । এই বইয়ের জন্যে ছবি একেছিলেন সত্যজিৎ । পথের পাচালী তার মনকে এত গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল সম্ভবত সেই সময়েই পথের পাচালী নিয়ে ছবি করবার কথা ভাবেন । ১৯৪৮ সালে সত্যজিৎ তার মায়ের বৈমাত্রেয় ভাই চারুচন্দ্রের ছোট মেয়ে বিজয়াকে বিয়ে করলেন । দুজনেই পরস্পরকে ভালবাসতেন ।

শুধুমাত্র পুত্রের সুখের কথা ভেবে সুপ্রভা দেবী এই বিবাহে মত দিলেন চাকরিসূত্রে কয়েক মাসের জন্য  ইংলন্ডে গেলেন সত্যজিৎ । এই সময় তিনি ইউরোপ-আমেরিকার শ্রেষ্ঠ পরিচালকদের অসংখ্যা ছবি দেখতেন । যা দেখতেন গভীরভাবে অনুভব করবার চেষ্ঠা করতেন । ভারতে ফিরে এসে স্হির করলেন পথের পাচালী ছবি করবেন ।

ছবি  তৈরির নানা সমস্যা । কয়েকজন সহযোগী পেয়ে সত্যজিৎ তাদের মধ্যে ছিলেন বংশী চন্দ্রগুপ্ত,ক্যামেরাম্যান সুব্রত মিত্র দুলাল দত্ত আরো অনেকে । মূল সমস্যা দেখা দিল অথের । সত্যজিৎ জীবনবীমা থেকে সাত হাজার টাকা ধার করলেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *