জন কিটস এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

জন কিটস জন্ম গ্রহণ করেন ১৭৯৫ সালের৩১ অক্টোবর এবং মৃত্যুবরণ করেন ১৮২১ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি।

দুশো বছর  আগেকার কথা । লন্ডন শহরের প্রাণকেন্দ্রে ছিল একটি আস্তাবল ।এমনি একটি আস্তাবলের পরিচালক ছিলেন টমাস কিটস ।নিচে আস্তাবল উপরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন টমাস ।স্ত্রী আস্তাবলের মালিকের মেয়ে । কাজের প্রয়োজনে টমাসকে যেতে হত মালিকের বাড়িতে ।

সেখানেই দুজনের দেখা তারপর প্রেম একদিন বিবাহ । বিবাহের এক বছর পর ১৭৯৫ সালের অক্টোবর মাসে টমাসের প্রথম সন্তানের জন্ম হল । যথাসময়ে শিশুর নামকরণ করা হল জন কিটস । কিটসের জন্মের কয়েক বছরের মধ্যেই জন্ম হল তার দুই ভাই জজ আর টমের ।

তিন ভাইয়ের মধ্যে কিটস ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর । সাত বছর বয়েসে তাকে এনফিল্ডের স্কুলে ভতি করে দেওয়া হল । কিটসের তখন নয় বছর বয়েস । জীবনে প্রথম আঘাতের মুখোমুখি হলেন ।ঘোড়া থেকে পড়ে মারা গেলেন টমাস কিটস।

স্বামীর মৃত্যুর পর কিটসের মা রলিগুস নামে একজনকে বিয়ে করলেন । কিন্তু অল্পদিনেই দুজনের সম্পকে  ফাটল ধরণ । এক বছরে মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেল । ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়ি  এলেন কিটসের মা ।কিটস তখন দশ বছরের ছেলে ।

১৮১০ সালে মারা গেলেন কিটসের মা । মরবার আগে নিজের অজান্তেই রাজরোগ যক্ষ্ণর বীজ দিয়ে গেলেন সন্তানকে ।  যেতে হত মালিকের বাড়িতে ।মায়ের মৃত্যুর পর পিতৃ-মাতৃহীন ছেলেমেয়েদের দায়িত্ব নিলেন মিস্টার এ্যবি ।

স্কুলে ফিরে এলেন কিটস ।দিন রাত পড়াশুনা নিয়ে থাকেন মাঝে মাঝে মনের খেয়াল কবিতা লেখেন । ১৫ বছর বয়েসে স্কুলের পড়া শেষ হল । কিটসের অভিভাবকের ইচ্ছা কিটস ডাত্তারি পড়বেন । ডাত্তারি পড়াবার জন্যে ভতি হলে মেডিকেল কলেজে ।

কিন্তু যার মনের মধ্যে জেগে উঠেছে কবিতার নেশা হাসপাতালের ছুরি কাচি ওষধ রুগী তার ভাল লাগবে কেন । সৌভাগ্য সেই সময় তার স্কুলের বন্ধু কাউডেন ক্লাক কিটসকে নিয়ে গেলেন সেই সময়কার খ্যাতিমান তরুণ কবি লে হাণ্টের কাছে ।

হাণ্টের সাথে পরিচয় (১৮১৬) কিটসের জীবনে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা । হাণ্ট কিটসের কবিতা পড়ে মুগ্ধ হলেন তাকে আরো কবিতা লেখবার জণ্যে উৎসাহিত করলেন । হাণ্ট একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন । সেই পত্রিকাতেই কিটসের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হল ।

এখানে কিটসের পরিচয় হল শেলীর সাথে ।আর ডাক্তারি মোহে নিজেকে বেধে রাখতে পারলেন না । অভিভাবকের উপদেশ অগ্রাহ্য করে মেডিকেল কলেজ ছেড়ে দিয়ে স্হির করলেন সাহিত্যকেই জীবনের পেশা হিসাবে গ্রহণ করবেন ।

কিটস তার দুই ভাইকে নিয়ে লন্ডণ ত্যাগ করে এলেন হ্যাম্পস্টেড । এখানে আসবার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাণ্টের সঙ্গ পাওয়া । অল্পদিনের মধ্যে কিটস প্রকাশ করলেন তার প্রথম কবিতা সংকলন । সকলের মনে আশা ছিল এই বই নিশ্চয়ই জনপ্রিয় হবে ।

কিন্তু দুভাগ্য কিটসের পরিচিত কিছু লোকজন ছাড়া এই বই এর একটি কপিও বিক্রি হল না । প্রথম কাব্য সংকলনের ব্যথতায় সাময়িক আশাহত হলেন কিটস কিন্তু অল্পদিনেই নতুন উৎসাহে শুরু করলেন কাব্য সাধনা । লেখ হল প্রথম দীঘ কবিতা  এন্ঢিমিয়ন ।

এ এক অসাধারণ কবিতা ।এই কবিতার প্রথম লাইনের মধ্যেই কিটসের জীবন দশন ফুটে উঠেছে । ইতিপূবে কখনো দেশভ্রমণে যাননি কিটস  তাই বন্ধুর সাথে বেরিয়ে পড়লেন । ভ্রমণ শেষ করে ফিরে আসতেই দেখলেন তার ভাই টম গুরুতর অসুস্হ ।

প্রকাশিত হল তার এণ্ওিমিয়ন কিটসের আশা করেছিলেন তার এই কবিতা নিশ্চয়ই খ্যাতি পাবে । কিন্তু তৎকালীন দুটি পত্রিকা ব্ল্যাকউড ম্যাগাজিন এবং কোয়াটালি রিভিয়ু তীব্র ভাষায় কিটসের নামে সমালোচনা করল ।

জঘন্য সে আক্রমণ ।এই তীব্র বিদ্বেষণ সমালোচনা প্রকৃতপক্ষে কিটসের মানসিক শক্তিকে বিপযস্ত করে দিয়েছিল । একদিনে যখন পত্রিকার সমালোচনায় ভেঙে পড়েছেন কিটস সেই সময় এল আরেক আঘাত ।

১৮১৮ সালের ১লা ডিসেম্বর মারা গেল টম । এই সময় কিটসের জীবনে এলা ফ্যানি ব্রন সুন্দরী প্রাণোচ্ছল তরুণী । ফ্যানি তার মায়ের সাথে ব্রাউনের বাড়ির ভাড়াটিয়া হয়ে এসেছিল ।কয়েক দিনের পরিচয়ে ভাল লেগে দুজনের ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *