জীবাণু গবেষক এডওয়ার্ড জেনার

ইংলিশ জীবাণু গবেষক এডওয়ার্ড জেনার জন্ম গ্রহণ করেন ১৭ মে ১৭৪৯ সালে এবং মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জানুয়ারি ১৮২৩ সালে।

শীতের রাত চারদিকে কনকণে ঠান্ডা । পথে ঘাটে একটি মানুষও নেই । অধিকাংশ মানুষই ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে ফারারপ্লেসের ‍সামনে বসে আগুনে পোয়াচ্ছে । যারা বাইরে গিয়েছিল সকলেই্ ঘরে ফেরার জন্য উদগীব ।

ভ্যাক্সিন আবিষ্কার

ইংল্যান্ডের এক আধা শহর বাকলেতে থাকতেন এক তরুণ ডাক্তার । বয়েসে তরুণ হলেও ডাক্তার হিসাবে ইতিমধ্যে চারিদিকে তার নাম ছরিয়ে পড়েছিল । দূর-দূরান্ত থেকে রুগী আসে তার কাছে । বহু দূরের এক রুগী দেখে বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল ।

ঘোড়ার গাড়ি থেকে নামতেই ডাক্তার দেখলেন তার বাড়িতে গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে কালো পোশাকে ঢাকা এক মহিলা । কাছে এগিয়ে গেলেন । সামনে আসতেই মহিলাটি তার পায়ের সামনে  বসে পড়ল আমার ছেলেকে বাচান ডাক্তারবাবু । ডাক্তার তাড়াতাড়ি ‍ুমহিলাকে তুলে ধরে বললেন কোথায় আপনার ছেলে ?

ছেলেকে বাড়িতে রেখে এসেছি ডাক্তারবাবু । আমার চার চারটি ছেলে আগে মারা গিয়েছে এই শেষ সম্ভল । সমস্ত দিনের পরিশ্রমে কান্ত অবসন্ন হয়ে পড়েছিলেন ডাক্তার ।তবুও মহিলাটির কাতর ডাকে সাড়া না দিয়ে পারলেন না তার সাথে বাড়িতে গেলেন ।

গলির শেষ প্রান্তে ছোট একটি ঘর ঘরের মধ্যে প্রদীপ জ্বলছিল । এক কোণায় বিছাণায় উপর শুয়েছিল ছোট একটি বাচ্চা । সারা গায়ে ঢাকা দেওয়া । ডাক্তার গায়ের ঢাকা খুলতেই চমকে উঠলেন । শিশুটির সমস্ত শরীর গুটি বসন্তে ভরে গিয়েছে । জ্বরে বেহুশ ।

ঔষধের বাক্স নিয়ে শিশুটির পাশে সমস্ত রাত জেগে রইলেন । সামনে উদবেলিত উৎকন্ঠা ভরা চোখে চেয়ে আছে মহিলাটি । এই ভয়ম্কর অসুখ আমার আগের চারটি সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে । একে আপনি বাচান । সমস্ত রাত জীবন আর মৃত্যুর লড়াই চলতে থাকে ।

অবশেষে পরাজিত হয় জীবন মৃত্যু এসে ছিনিয়ে ‍ুনিয়ে যায়  জীবন । মায়ের কান্নায় মুখর হয়ে ওঠে চারদিক । রণক্লান্ত পরাজিত সৈনিকের মত বাড়ি ফিরে চলেন ডাক্তার । তার বুকের মধ্যে বাজতে থাকে বিধবা মায়ের সন্তান হারাবার কান্না । নিজেকে বড় অসহায় মনে হয় ।

দীঘক্ষণ পাথরের মূতির মত স্হির নিস্পন্দ হয়ে থাকেন । তারপর এক সময় উঠে দাড়ান । পুত্রহারা মায়ের এই কান্না তাকে বন্ধ করতেই হবে । পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে হবে মৃত্যুরূপী  এই ভয়ম্কর গুটি বসন্তকে । গুরু হল তার সাধনা ।

একদিন দুদিন নয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর । কোন ক্লান্তি নেই অবসন্নতা নেই এই সাধনায় তাকে সিদ্ধিলাভ করতেই হবে । অবশেষে সাফল্য এসে ধরা দিল সাধনার কাছে । জয়ী হল মানুষের সংগ্রাম । বসন্তের ভয়াবহ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল পৃথিবী ।

যে মানুষটির ‍ুনিরলস সাধনায় পরাজিত হল ভয়াবহ ব্যাধি তার নাম এডওয়াড জেনার । ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মে ইংলন্ডের বাকলে শহরে তার জন্ম । বাবা ছিলেন সেখানকার ধমযাজক । বাকলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন তাদের অকৃত্রিম বন্ধু ।

গরীব-দুঃখী মানুষের প্রতি তার ছিল সীমাহীন ভালবাসা । পিতার এই মহৎ গুণ শিশুবেলা থেকেই জেনারের চরিত্রে প্রভাব বিস্তার করেছিল । কিন্তু পিতার সান্নিধ্য দীঘদিন পাননি জেনার । যখন তার মাএ পাচ বছর বয়েসে তখন বাবা মারা যান ।

তার সব ভার এসে পড়ে দাদা রেভারেন্ড স্টিফেন জেনারেল উপর । দাদার স্নেহচ্ছায়াতেই বড় হয়ে উঠতে থাকেন জেনার । জেনার যেখানে থাকতেন সেই বাকলের সংলগ্ন অঞ্চল ছিল সবুজ মাঠ গাছপালা মাঝে মাঝে চাষের জমি কোথাও গোচারণ ভূমি ।

চাষীরা চাষ করত রাখাল ছেলেরা মাঠে গরু নিয়ে আসত । ছেলেবেলা থেকেই  এই উদার মুক্ত প্রকৃতি জেনারকে নেশার মত আকষণ করত তিনি একা একা ঘুরে বেড়াতেন মাঠের ধারে গাছের তলায় । মনে হত তারা যেন সজীব পদাথ ।

প্রতিটি গাছের পাতায় ছোট ছোট ঘাসের মধ্যে তিনি যেন প্রাণের  স্পন্দন ‍শুনতে পাচ্ছেন । পাখির ডাক তার কলকাকলি মনে হত সঙ্গীতের মূচ্ছর্না । প্রকৃতির মুখোমুখি হলেই  তন্ময়তার গভীর ডুব দিতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *