নাট্যকার হেনরিক ইবসেন

হেনরিক ইবসেন  জন্মগ্রহণ করেন ২০ মাচ ১৮২৮ সালে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৩ মে ১৯০৬ সালে ।

শেকসপীয়ারের পর ইউরোপের নাট্যজগতে সবচেয়ে প্রভাব যিনি বিস্তার করেছিলেন তার নাম হেনরিক ইবসেন । নরওয়ের স্কিন শহর তার জন্ম ২০ মাচ ১৮২৮ । তার বাবা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী ।

পারিবারিক সূত্রে তাদের মধ্যে ডাচ জামান স্কট জাতির সংমিশ্রণ ঘটেছিল । যখন ইবসেন নিত্যন্তই বালক সেই সময় তার বাবা ব্যবসায়ে সবস্বান্ত হণ । সুখের সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য । নিদারুণ আথিক অনটনের মধ্যেই শুরু হল হেনরিক ইবসেনের শৈশব ।

ছেলেবেলা থেকেই সমাজের নিমম বাস্তবতাকে জীবন দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তিনি । তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবার নিদারুণ অভাবের জন্য প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডীটুকু শেষ করতে পারলেন না। এই সময় তারা স্কিন শহর ত্যাগ করে এলেন ডেনস্টপে ।

ষোল বছর বয়সে এক অনুপযুক্ত । তবুও তারই মধ্যে ছটি বছর তিনি এখানে অতিবাহিত করেন । এখানকার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা পরবতী জীবনে তার মানসিকতাকে গড়ে তুলতে খুবই সাহায্য করেছিল ।

এখানে কাজ করবার সময়েই তিনি দেখেছিলেন সমাজের অভিজাত শ্রেণীর কদয় রূপ । দারিদ্র মানুষের প্রতি তাদের কি নিদারুণ অবজ্ঞা আর ঘৃণা এই ঘটনা থেকেই তার মনের মধ্যে জেগে উঠতে থাকে সমাজের প্রতি তীব্র ক্ষোভ আর ঘৃণা এবং মাঝে মাঝেই তার আচরণের মধ্যে এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটত ।

যখন তিনি ঔষধ কারখানাতে কাজ করতেন তখনই প্রথম তিনি সাহিত্যর দিকে আকৃষ্ট হণ । কাজের অবসরে যখনই সময় পেতেন নানান বিষয়ের বই নিয়ে পড়তেন সাহিত্যচচা করতেন । প্রথম কবিতা রচিত হয় যখন তার ১৯ বছর বয়সে ।

স্হানীয় একটি পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছিলে । কবিতা রচনার সাথে সাথে রাজনীতির প্রতি ও আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন । পরবতী দু বছরের মধ্যে তার বেশ কিছু কবিতা প্রকাশিত হল । কবি হিসাবে জনগণের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন ।

ইতিমধ্যে কিছু অথ সঞ্চয় করে ঔষধ কারখানার চাকরি ছেড়ে দিলেন । আসলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভতির জন্য পড়াশুনা আরম্ভ করলেন । ২২ বছরে তিনি ভতি হলেন আসলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ।

এক সংকীণ পরিবেশ থেকে এলেন এক উন্নুক্ত জগতে । এখানে তিনি পুরোপুরি সাহিত্যচচায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন । গ্রীক নাট্যকারদের পড়ে তার মনের মধ্যে ধীরে ধীরে নাটক লেখার রচনা বন্ধুবান্ধবদের সহযোগিতায় তা প্রকাশিত হল ।

এর অল্পদিনের মধ্যেই রচনা করলেন নাটকটি মঞ্চস্হ হল কিন্তু তা কয়েকদিনের বেশি চলল না । সাহিত্য সাধনায় এত বেশি মনোযোগি হয়ে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অকৃতকায হলেন ।

বাধ্য হয়ে একটি পত্রিকায় কয়েক মাসের জন্য সাংবাদিক চাকরি নিলেন । নাটকের প্রতি তার ছিল স্বভাবসিদ্ধ আকষণ । সাংবাদিক হিসাবে কাজ করবার সময়েই নাট্যজগতে সাথে পরিচিত হয়ে ওঠেন ।

১৮৫১ সালে ওল বুল নামে একজন বিখ্যাত বেহালাবাদ বাগেন শহরে একটি রঙ্গমঞ্চ স্হাপন করলেন । তিনি হেনরিক ইবসেন এখানে মঞ্চসজ্জা  ও কবিতা রচনার জন্য নিযুক্ত করলেন । দীঘ পাচ বছর ইবসেন বাগের রঙ্গমঞ্চের সাথে যুক্ত ছিলেন ।

এই সময় শুধু যে তার রচিত কয়েকটি নাটক এখানে মঞ্চস্হ করতে পেরেছিলেন তাই নয় ইউরোপের বিভিন্ন নাট্যকারদের নাটকের সাথেও পরিচিত হয়ে ওঠেন । তাছাড়া নাটক দশক রঙ্গম্ঞ্চ  সম্বন্ধে ও বিস্তৃত ধারণা হয় ।

এই অভিজ্ঞতা পরবতী জীবনে তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছিলন ।এক বছর পর ১৮৫২ সালে ইবসেনকে দেশ বিদেশর নাট্যকলার সাথে পরিচিত হবার জন্য বাগের থিয়েটারের তরফ থেকে একটি বৃত্তি মঞ্জুর করা হল ।

হেনরিক ইবসেন প্রথমে গেলেন ডেনমাকে তার পর জামানী । জামানীতে থাকার সময় তিনি লিখলেন মিড সামার ইভ নামে একটি নাটক । পরের বছর এই নাটকটি মঞ্চস্হ হল । এই সময় আরো কয়েকটি নাটক লিখেছিলেন ।

এই সব নাটকগুলির মধ্যে তার ধারাবাহিক উন্নতি চিহৃ লক্ষ্য করা গেলেও প্রতিভার কোন পরিচয় প্রকাশ পায়নি । তাছাড়া কোন নাটকই মঞ্চে সফল হয়নি । বাগেনের রঙ্গমঞ্চটি দশকের অভাব বন্ধ হয়ে ঘেল ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *