নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর আত্মজীবনী

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট জন্ম:১৫ই আগস্ট, ১৭৬৯; এজাক্সিউ, করসিকা, মৃত্যু:৫ই মে, ১৮২১; সেন্ট হেলেনা ।

ইতালির অন্তগত কসিয়া দ্বীপের আজাশিও নামে  একটি ছোট শহরে বাস করতেন এক আইনজীবী নাম চালস । তিনটি  সন্তান তার । চতুথ সন্তানের জন্মোর সময় চিন্তিত হয়ে পড়লেন । স্ত্রীর শরীরের অবস্হা ভাল নয় । কিন্তু ঈশ্বরের আশীবাদে যথাসময়েই চালসের স্ত্রী চতুথ পুত্র সন্তান জন্ম দিলেন ।

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট

দাই এসে সংবাদ দিতেই ঘরে ঢুকবেন চালস । নতুন কেনা গদির উপর ‍শুয়ে রয়েছেন তার স্ত্রী আর নবজাত শিশুসন্তান । সমস্ত গদির উপর যুদ্ধের ছবি আকা । সেই দিন চালস কল্পনা ও করতেন পারেননি যুদ্ধের ছবির উপর জন্ম নিল যে শিশু যুদ্ধ হবে তার জীবনসঙ্গী । যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে হবে তার প্রতিষ্ঠা ।

যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই একদিন তিনি ক্ষমতার শীষে আরেহণ করবেন । আবার যুদ্ধই তার ধ্বংসের কারণ চালসের সেই নবজাত শিশু সন্তান (জন্ম ১৫ই আগস্ট ১৭৬৯) ভবিষ্যতের বীর নায়ক নেপোলিয়ান বোনাপোট । যে সমস্ত মানুষ তাদের ব্যক্তিত্ব ,কৃতিত্ব,কমপন্হা,অপরিসীম সাহস ও শক্তি দিয়ে ইতিহাসের গতি পরিবতন করতে সক্ষম হয়েছিলন ,নেপোলিয়ন তাদের অন্যতম ।

চালস বোনাপাট ছিলেন সুদশন প্রতিভাবান ,আইনজীবী । সক্তা হিসেবেও তার ‍ুখ্যাতি ছিল । পুত্রদের প্রাথমিক শিক্ষার সব ভার তিনি নিজেই গ্রহণ করেছিলেন । শিশু নেপোলিয়ন দাদাদের সাথে পড়াশুনার অবসরে দ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়াতেন । ভবিষৎ জীবনে নেপেলিয়নের চরিত্র কসিয়ার প্রাকৃতিক প্রভার সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ।

সেখানেকার পাহাড়-পবতের মতই অনমনীয় দৃঢ়তা,শান্ত অটল প্রকৃতি নেপোলিয়নের জীবনে মূত হয়ে উঠেছিল । নেপোলিয়নের মা ছিলেন উদার শান্ত প্রকৃতির মহিলা । বাবা –মার চারিত্রিক প্রভাবও নেপোলিয়নের জীবনে অনেকাংশে প্রভাবিত করেছিল । নেপোলিয়নের বাল্যশিক্ষা শুরু হয় তার বাড়িতে পিতার কাছে ।

দশ বছর বয়সে একটি ফরাসী স্কুলে ভতি হলেন । প্রথমে কসিয়া ছিল জেনোয়ার অধিকারে । পরে এই দেশ ফরাসীরা দখল করে নেওয়ার ফলে কসিয়া ফরাসী অধিকারভুক্ত হয় । নেপোলিয়ন ফরাসী নাগরিক হিসাবে জন্মগ্রহণ করলেও  ফরাসীদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন না ।

কারণে তার মনে হত ফরাসীরা তাদের স্বাধীনতা হরণ করেছে । ছেলেবেলা থেকেই নেপোলিয়নের ইচ্ছা ছিল সৈনিক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন । স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি ভতি হলেন একটি সামরিক কলেজে । সামরিক শিক্ষায়  নিজেকে গড়ে  তুললেও ইতিহাস  ও দশনের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ ।

তিনি প্লেটো,ভলতেয়ার,রুশো প্রভৃতি দাশনিকদের রচনা গভীর মনোযোগ সহকারে পড়াতেন আলোচনা করতেন ।তবে তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত বিভিন্ন দেশের ইতিহাস সেই সব দেশের সম্রাট রাজাদের বীরত্ব সাহস কীতি তাকে মুগ্ধ করতে । তার যৌবনে একটি মাত্র উদ্দেশ্য ছিল কসিয়ার স্বাধীনতা অজন ।

তিনি বিশ্বাস করতেন একমাত্র সামরিক বাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসাবে ভতি হলেন । এই সময় ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই এর বিরদ্ধে দেশ জুড়ে ‍ুশুরু হয়েছে বিপ্লব । রাজাকে পদচ্যুত করে দেশের ক্ষমতা দখল করল বিপ্লবী পরিষদ । তৈরি হল কনভেনশন বা প্রজাতান্ত্রিক ফরাসী সরকার ।

সমস্ত দেশ জুড়ে আরম্ভ হল হানাহানি মারামারি আর সন্ত্রাসের রাজত্ব । নিহত হল রাজা ষোড়শ লুই । ফ্রান্সের এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ফলে বিভিন্ন রাষ্ট্র ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল । এই সব দেশের সৈন্যদের একত্রিত করে তৈরি হল শক্তি সঙ্ঘ ।

ফরাসী বিপ্লব শুরু হওয়ার পর যখন নতুন শক্তি দেশের ক্ষমতা দখল করল তারা ফরাসী অধিকারভুক্ত বিভিন্ন দেশকে স্বতন্ত্র প্রদেশ হিসাবে ঘোষণা করে অভ্যন্তরীণ শাসনের পূণ স্বাধীনতা দান করল । এই ঘোষণার ফলে নেপোলিয়নের মনে ফ্রান্সের প্রতি যে ঘৃণা ছিল তা সম্পণ দূর হয়ে গেল ।

১৭৯৩ সালে ইউরোপের শক্তি সগ্ঙের তরফে ইংরেজ নৌবাহনী ফরাসী সামরিক বন্দর টুলো অবরোধ করল ।   সেখানকার স্হানীয় নাগরিকরাও রাজার সমথন ইংরেজদের সাহায্য করতে এগিয়ে । নেপোনিয়ন বোনাপাট তখন ফরাজী বাহিনীর এক ক্যাপ্টেন ইংরেজ বাহিনীর অবরোধ মুক্ত করবার ভার পড়ল তার উপর ।

সসৈন্যে এগিয়ে গেলেন নেপোলিয়ন । দুপক্ষে শুরু হল তুমুল যুদ্ধ । ইংরেজ বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ফরসীদের তুলনায় বেশি হওয়া সত্ত্বেও নেপোলিয়নের সুদক্ষ রণনীতির সামনে তারা সম্পূণভাবে পরাজিত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *