বারট্রান্ড রাসেল এর আত্মজীবনী

১৯০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব প্রদান করেন বারট্রান্ড রাসেল ।

এই প্রজ্ঞাবান মানুষটির জন্ম হয় ইংল্যান্ডের মন্মথশায়ারের ট্রেলাক গ্রামে । জ্ন্মতারিখ (১৮৭২ সালে ১৮ই মে )। ইংল্যান্ডর এক সম্ভান্ত পরিবারে তার জন্ম । দাদু লড জন রাসেল ছিলেন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী । বাবা ভাইকাউন্ট ছিলেন পালামেন্টর সদস্য ।

পরিবার পরিকল্পনা সপক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তার সদস্যপদ হারান । তার মাও ছিলেন উদারনৈতিক চরিত্রের মহিলা । শৈশবেই বাবা মাকে হারান রাসেল । এই প্রসঙ্গে তিনি লিখতেন আমার ছেলেবেলা ছিল চরম বিয়োগান্তক । জন্মর এক বছর পরেই্ বাবা অসুস্হ হয়ে শয্যশায়ী হয়ে পড়লেন ।

চাচা হঠা উন্নাদ হয়ে গেলেন । মা আর বোন একই সাথে ডিপথেরিয়িার মারা গেলেন । ১৮ মাস পর বাবা মারা গেলেন । ভাই ফ্রাম্ক কাদছিল আমি চুপ করে সব দেখছিলাম । মা-বাবার অবতমানে শিশু রাসেলের সব ভার নিজের হাতে তুলে নেন দাদী রাসেল ।

বাড়িতেই পড়াশুনা শুরু হল । একজন জামান গভনেস ও ইংরেজ শিক্ষকর তত্ত্ববধানে তিনি সাহিত্য বিজ্ঞান অম্কের পাঠ নিতে আরম্ভ করলেন । ভাইয়ের কাছে শিখতেন ঝ্যামিতি । কিন্তু তার প্রিয় বিষয় ছিল বীজগণিত ।

১৮৯০ সালে আঠারো বছর বয়সে কেমব্রিজের ট্রিনটি কলেজে ভতি হলেন । তার বিষেশ আগ্রহ ছিল বীজগণিত । এখানে থেকে গণিত প্রথম হলেন ট্রাইপোস । পরে সপ্তম বাংলায় । গণিত ছাড়াও তার আকষণ ছিল দশনে । দশনে সম্মানের সাথে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীণ হয়ে কলেজের ফোলো নিবাচন হলেন ।

কেম্রব্রিজে ছাত্র অবস্হাতিই পরিচয় হয় অ্যালিস পিয়াসন  স্মিথ নামে এক আমেরিকান তরুণীর সাথে । অল্পদিনেই দুজনে গভীর প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন ১৮৯৪ সালে দুজনের বিয়ে হল । রাসেল তখন মাত্র ২২ বছরের যুবক ।

অধ্যাপক ভায়ারট্রাসের সাথে একসাথে গণিত সংক্রান্ত কিছু কাজকম করলেন । এখানে তিনি গণিতে অধ্যাপনাও করেছেন । ১৯০০ সালে রাসেলের জীবনে ঘটনা এক উল্লখযোগ্য ঘটনা । প্যারিসে ধসেছিল দশনের বিষয়ে আন্তজাতিক সম্মেলন । ইংল্যান্ডে ফিরে এসে তিনি এবং অধ্যাপক হোয়াইটহেড একই সাথে গবেষণা শুরু করলেন ।

১৯০২ সাল থেকে ১৯১০ দীঘ আট বছর অকান্ত পরিশ্রমের পর প্রকাশ করলেন গণিতশাস্ত্র সম্বন্ধনীয় যুগান্তকারী রচনা প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা । প্রিন্সিপিয়া উত্তরকালে গণিতজ্ঞদের কাছে এক অমূল্য গ্রন্হ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে ।

অম্কশাস্ত্রের উপর এমন প্রামাণ্য গ্রন্থ খুব কমই রচিত হয়েছে । দুই মহান  পণ্ডিতের অক্লান্ত সাধনার ফলশ্রতি এই গ্রন্হ । ১৯০৮ সালে তিনি লন্ডনের রয়াল সোসাইটির ফোলো নিবাচিত হলেন । এমন লোককে ভোটে নিবাচিত করার কোন অথই হয় না । ভোটে পরাজিত হলেন রাসেল ।

উত্তরকালে আরো দুবার তিনি পালামেন্ট প্রতিদ্বিতা করেন দবারই । পরাজিত হণ । ১৯১৪ সালে শুরু হল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ । রাসেল ছিলেন যুদ্ধবিরোধী । তিনি ইংল্যান্ডের মানুষের সঙ্গী মনোবৃত্তির তীক্ষ্ণ সমালোচনা করলেন । তার একটি যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের জন্য ।

সমস্ত দেশবাসীর কাছে অপ্রিয়ভাজন হয়ে উঠেলেন । রাসেলকে অভিযুক্ত করা হল  এবং তার বিরুদ্ধে জরিমানা ধায করা  হল । তিনি জরিমানা দিতে অস্কীকার করলেন । এর জন্যে তার গ্রন্হাগারের অধিকাংশ বই বিক্রি করে জরিমানা অথ আদায় করা হল ।

১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যখন শেষ পযায়ে তিনি ট্রিবিউনাল পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ প্রকাশ । করবর অপরাধে কারারুদ্ধ হলেন । ইংল্যান্ডের মিত্রপক্ষ আমেরিকার বিরুদ্ধে এই লেখার জন্য ছয় মাসের জন্য তাকে কারারুদ্ধ করা হল ।

কারাদণ্ধ ভোগ করার অপরাধে তাকে ট্রিনটি কলেজের অধ্যাপকের পদ থেকে বিতাড়িত করা হয় । কারাগারে বসেও এই জ্ঞানতাপস বৃথা সময় নষ্ট করনি । এই সময় রচনা করলেন তার বিখ্যাত গ্রন্হ ।

কারাগার  থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দীঘ কয়েক বছর তিনি কোন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাননি । এই সময় লেখা ও বত্তৃতা দিয়ে উপাজন করতেন । ইতিমধ্যে রাশিয়ায় বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে । দেশে গড়ে উঠেছে সমাজতন্ত্র ।

রাসেল সমাজবাদের প্রতি আকৃষ্ট হলেন । ১৯২০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হল আন্তজাতিক শ্রমিক সম্মোলন । রাসেল ইংল্যান্ডের শ্রমিক সম্মেলন । রাসেল ইংল্যান্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি হিসাবে রাশিয়ার গেলেন । এখানে সাক্ষাৎ হল লেনিনের সাথে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *