মাইকেলেঞ্জেলো এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাইকেলেঞ্জেলো জন্ম গ্রহন করেন ৬ মার্চ  ১৪৭৫ সালে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৫৬৪ সালে ।

পুরো নাম  মাইকেলেঞ্জেলো বুয়োনারত্তি । বাবার নাম লোদভিকো । মাইকেলেঞ্জেলোর জন্মের পরেই তার মা গুরুতর অসুস্হ হয়ে পড়লেন । বাধ্য হয়েই  তার জন্যে ধাত্রী নিয়োগ করা হল । ধাত্রী এতজন পাথর খোদাইকারীর স্ত্রী ।

নিজেও অবসরে পাথরের কাজ  করতো । ছয় বছর বয়েসে মা মারা গেলেন মাইকেলেঞ্জেলো । তিন বছর এক অস্হির টানাপোড়েন কেটে গেল । দশ বছর বয়েসে স্কুলে ভতি হলেন । বাবার ইচ্ছে ছিল  ছেলে পাশ করার পর ব্যবসা করবে ।

কিন্তু ছেলের ইচ্ছে অন্য রকম পাড়ার একটি ছেলে গিরলানদাই ও নামে এক শিল্পীর কাছে ছবি আকা শেখে । একদিন বাবার কাছে প্রসঙ্গটা তুলতেই লোদভিকো গজে উঠলেন । কিন্তু মিকেলেঞ্জেলোর প্রচণ্ড আগ্রহের কাছে শেষ পযর্ন্ত তাকে মাথা নত করতে হল ।

১৩ বছর ভয়েসে ভতি হলেন গিরলানাদাইওর স্টুডিওতে । স্কুলের পড়া শেষ হল শুরু হল ছবি আকা । বেশ কয়েক মাস কেটে গেল । একদিন ঘুরতে মাইকেলেঞ্জেলো এসে পড়লেন মেদিচি ( ফ্লোরেন্স গণরাস্ট্রে নিবাচিত প্রধান ) প্রাসাদের কাছে ।

চোখে পড়ল স্কালপচার গাডেন । পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলন । কি অপূব সব মূতি সাজানো  রয়েছে চারদিকে । দেহের আকৃতি চোখের তারায় মুখের ভাবে তারা যেন এক একটি রক্ত মাংসের প্রতিমা । কিছুদিনের মধ্যেই ডাক পেলেন ভাস্করদের স্কুল থেকে ।

কি মুতি পড়বেন মাইকেলেঞ্জেলো  । হঠাৎ মনে পড়ে গেল একটা বইতে পড়েছিলেন প্রাচীন রোমের অরুণা দেবতা ফনের কথা । অধেক মানুষ অধেক পশু । চোখ বুজতেই মনের কল্পনায় ফুটে উঠল সেই রূপ চক খড়ি দিয়ে পাথরের উপর আকতে বসলেন ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ফনের বিচিত্র চেহারা ফুটে উঠল পাথরের উপর । তিনদিন অবিশ্রান্ত কাজ করার পর শেষ হল মূতি । যেন জীবন্ত ফন পৌরাণিক জগৎ থেকে উঠে এসে দাড়িয়েছে স্কালপচার গাডেনে ।

কয়েকদিন পর স্কালপচার গাডেনের মধ্যে দিয়ে যেতে থমকে দাড়িয়ে পড়লেন লরেঞ্জ দ্য মেদিচি । এখানকার প্রতিটি মূতি তার চেনা কিন্তু এই্ নতুন মূতিটি কোথা থেকে  এল । দাড়িয়ে পড়লেন লরেঞ্জ । তাকে দেখেই দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলেন মিকেলেঞ্জলো ।

তার দিকে ফিরে লরেঞ্জ বললেন কে এই মূতি তৈরি করেছে । ইওর এক্সলেন্সী আমি এই মূতি তৈরি করেছি। তোমার ফনকে দেখে তো মনে হচ্ছে বৃদ্ধ তাই না ? বৃদ্ধ মানুষের মুখে কি সব কটা দাত থাকে? থতমত খেয়ে গেলেন মাইকেলেঞ্জেলো । এ কথা তো তার মনে আসেনি ।

কিন্তু বলার আগেই মেদিতি তার পিঠে সামান্য চাপড় মেরে  এগিয়ে গেলেন । লরেঞ্জ চলে যেতেই কয়েক মুহূর্তে চিন্তা করলেন মাইকেলেঞ্জেলো তারপর ছেনি তুলে নিলেন । পরদিন বাগানো আসতেই ফনের মূতির দিকে চোখ পড়ল লরেঞ্জের ।

তার পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন বারতোলদো । লরেঞ্জ তাকে বললেন কি ব্যাপার একদিনে ফনের বয়েস মনে হচ্ছে কুড়ি বছর বেড়ে গিয়েছে । ওপরের দুটো দাত নেই নিচের একটা দাত নেই মুখের উপরে চামড়ায় ভাজ পড়েছে এতটুকু ভূল নেই  কোথাও ।

বারতোলদো বললেন গতকাল আপনি চলে যাবার কিছুক্ষণ পর মাইকেলেঞ্জেলো এই কাজ করেছে । মুগ্ধ হলেন লরেঞ্জ । বললেন এখন থেকে ওকে আর বাইরে থেকে যাতায়াত করতে হবে না । ও আমার প্রাসাদে আমার পরিবারের সঙ্গই থাকবে ।

এখান থেকেই ও সব কিছু শিখবে । মেদিচি প্রাসাদ । শুরু হল মাইকেলেঞ্জেলো নতুন জীবন । এখানে কবি শিল্পী সাহিত্যিক দাশনিকদের সান্নিধ্য এগিয়ে চলল তার সাধনা । হঠাৎ ফ্লোরেন্সের মাটিতে আবিভূত হল এক মূতিমান কালাপাহাড় ।

ফ্লোরেন্সর প্রধান গীজার যাজক হিসাবে নিবাচিত হয়েই সাভানারোল হুম্কার ছাড়লেন মেদিচিরা স্বৈরাচারী তারা শিল্পের নামে সাহিত্যের নামে যা করছে তা ধমবিরুদ্ধ । বতমানে মানুষ যা করছে তা অন্যায় পাপ । মাইকেলে দ্বিধাগ্রস্ত  হয়ে পড়েন । ক্রমশই সাভানারোলোর প্রভাব বেড়ে চলে ।

লরেঞ্জ অসুস্হ হয়ে পড়েন ।এই । অবস্হার মধ্যেই মাইকেল দুটি মূতি তৈরি করলেন ম্যাডোনা সেন্টরের যুদ্ধ । আর একটি নতুন মূতির কাজে হাত দিয়েছেন এমন সময় খবর এল লরেঞ্জ মারা গিয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *