মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কারক জোহান্স গুটেনবার্গ

 জোহান্স গুটেনবার্গ আধুনিক মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কারক তিনি ১৪০০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৪৬৮সালে মৃত্যুবরণ করেন ।

মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কারক হিসাবে জোহান্স গুটেনবাগর নাম কে না জানে । এই জার্মান  বৈজ্ঞানিক পৃথিবী  বিখ্যাত । ১৪০০ সালে জামানের এক ভদ্র পরিবারে তার জন্ম । ছোটবেলায় ভালভাবে লেখাপড়া শেখার সুযোগ তেমন পাননি তিনি । তাই বাবার ব্যবসাকেই্ সঙ্গী করে জীবন গুরু করেন ।

গুটেনবাগ ছিলেন একজন খুব ভাল শিল্পী । ব্যবসায়েও খুব ভাল ছিলেন । বাজারে তার সুনাম ছিল সৎ ব্যবসায়ী । গুটেনবাগের একটা নেশা ছিল তখন খেলায় । তিনি অবসর সময় পেলেই তার স্ত্রী এনার সঙ্গে তাস খেলতে বসে যেতেন ।

আজকের মতো তখনতো ভাল তাস পাওয়া যেত না তাই গুটেনবাগেরও মাথায় একটা বুদ্ধি এল । তিনি ভাবলেন খুব সুন্দর করে এক বান্ডিল তাস । আকবেন । ব্যস এই কথা মনে হতেই তিনি খেলা বন্ধ করে মেতে গেলেন তাস আকতে । দুই-তিনখানা তাস আকার পরই তিনি ভাবলেন দূর এইভাবে এত কষ্ট করে আকা যায়?

কিভাবে যন্ত্রের দ্বারা ছবি  আকা যায় সেই ভাবনাই ভাবতে লাগলেন । গুটেনবাগ রং তুলি ফেলে তিনি গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসলেন । অনেক চিন্তা- ভাবনা করে তিনি কাঠের ব্লক তৈরি করলেন । সেই কাঠের ব্লকের উপর কালি মাখিয়ে তা কাগজের উপর ছাপ দিলেন ।

এতে সত্যিই সুন্দর তাসের ছবি পাওয়া গেল । আনন্দে আত্নহারা হয়ে উঠলেন গুটেনবাগ । তিনি অনেকগুলো কাঠের ব্লক তৈরি করে প্রচুর তাস তেরি  করে সব বন্ধুদের আনন্দে বিলাতে লাগলেন। কাঠের ব্লকে তাস ছেপে তিনি খুব খুশি হলেন । শিল্পীমনের চিন্তার শেষ নেই ।এবার ভাবলেন অন্যকিছু ।

গুটেনবাগ মনে মনে ঠিক করলেন কাঠের উপর মহাপুরুষের ছবি একে ব্লক করলে কেমন  হয়  । যেই ভাবা সঙ্গে সঙ্গে তিনি কাজে লেগে গেলেন । এই মহাপুরুষের ছবির নিচে কাঠের সূক্ষ্ণ এবং ধারাল অস্ত্র দিয়ে কেটে কেটে অক্ষরের ব্লক তৈরি করে মহাপুরুষের সংক্ষিপ্ত জীবন কথা ছেপে তিনি দেবার ব্যবস্হা করলেন।

এভাবে তিনি বেশ কয়েকজন মহাপুরুষের ছবি তৈরি করে দোকানে রেখে দিলেন । গুটেনবাগের দোকানে অনেক ভাল ভাল লোকজন আসতেন তারা তার এই গুণ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন । অনেক অনেক দাম দিয়ে ছবিগুলো কিনে নিলেন ।

হাতের কাছে ব্লক তৈরি থাকার জন্য গুটেনবাগ অল্প সময়ের মধ্যে সাদা  কাগজে ছাপ তৈরি করে বিত্রি করতেন । প্রথমে তিনি কাঠের ফলকে ছবি ও লেখা  একে ফেলতেন তারপর প্রয়োজনমত অংশটা রেখে বাকি কাঠটা কেটে ফেলতেন । এই সোজা ব্লকটা আর একটা কাঠের ফলকে ছাপ দিয়ে উল্টো ব্লক তৈরি করে নিতেন ।

এই পরের ব্লকটাই হতো কিন্তু আসল ব্লক । একদিন গুটেনবাগের দোকানে এক পাদাবী সাহেব এলেন । তিনি গুটেনবাগের এই কাণ্ড দেখে তো অবাক হয়ে গেলেন । তিনি বেশ কয়েকটা ছবি কিনে নিলেন ।

পদবী সাহেব ভাবলেন তা অবাক হয়ে গেলেন মহাপুরুষের জীবনী যদি আর একটা বড় করে লিখে জনসাধারণের মধ্যে বিলি করা যায় তাহলে দেশের মানুষের খুবই উপকার হবে তারা জানতে পারবে ও শিখতে পারবে ।

পাদরী সাহেব কয়েকজন মহাপুরুষের জীবনী লিখে নিয়ে হাজির হলেন গুটেনবাগের কাছে তিনি বললেন যেমন করে হোক এইগুলো ছাপিয়ে  দিতে হবে তার জন্য যা খরচ হবে সব তিনিই দেবেন । গুটেনবাগ তো মহা বিপদে পড়লেন । ভাবলেন কি করে এই সমস্যার সমাধান করবেন ।

তবে মুখে কিছুই বললেন না । কয়েক মাস ধরে তিনি অসম্ভব পরিশ্রম করে কাটের ফলকের উপর একটার পর একটা করে খোদাই করলেন অক্ষরের উল্টো প্রতিলিপি । এভাবে তিনি চৌষট্রিখানা  ব্লক তৈরি করে একদিন প্রকাশ করলেন চৌষট্রি পৃষ্ঠার মহাপুরুষের জীবনী গ্রন্হ । যা সবাইকে অবাক করে দিল ।

কারণ এর আগে কোন বই ছাপা  অক্ষরের উল্টো প্রতিলিপি । এভাবে তিনি চৌষট্রিখানা ‍ুব্লক তৈরি করে একদিন প্রকাশ করলেন চৌষট্রি পৃষ্ঠার মহাপুরুষের জীবনী এই বইটি ছাপার পর থেকে গুটেনবাগের উৎসাহ আরও বেড়ে গেল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *