মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনুন নাফিসের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইবনুন নাফিস ছিলেন মুসলিম বিজ্ঞানী তিনি ৬০৭ হিজরী মোতাবেক ১২০৮ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন ।

জ্ঞান,বিজ্ঞান,চিকিৎসা, শিল্প,সাহিত্য ও বিশ্ব সভ্যতায়   মুসলমাদের যে শ্রেষ্ঠ অবদান রয়েছে তা  আমরা অনেকেই জানি না । পাশ্চাত্য সভ্যতার ধারক ও বাহক এবং তাদের অনুসারীগণ ষড়যন্তমূলকভাবে মুসলিম মনীষীদের নামকে মুসলমানদের স্মৃতিপট থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্যে ।

ইবনুন নাফিস

ইসলাম ইাতহাস এবং মুসলিম বিজ্ঞানীদের নামকে বিকৃতভাবে লিপিবদ্ধ করেছে । ফলে সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে অনেকে অকপটে এ কথা বলতে ও দ্বিধা করেন না যে সভ্যতার উন্নয়নে মুসলমানদের তেমন কোন অবদান নেই । বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানেও মুসলমানগণ অমুসলিমদের নিকট ঋণী ।

কিন্তু এ উক্তি সঠিক নয় বরং মিথ্যারও নীচে । এমন এক যুগ ছিল যখন মুসলিম জাতির মধ্যে আল্লাহ পাকের করুণায় ধন্য মানুষের জন্ম হয়েছিল । তারা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রায় সকল ধারা বা শাখা  প্রশাখা আবিষ্কার করে গিয়েছিল । তাদের মৌলিক আবিষ্কারের উপরই বতমান জ্ঞান বিজ্ঞানের অধিষ্ঠান ।

মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্হা কে আবিস্কার করেছিলেন ? শ্বাসনালীর  আভ্যান্তরীণ অবস্হা কি ? মানবদেহ বায়ু ও রক্ত প্রবাহের মধ্যে ক্রিয়া-প্রক্রিয়া ব্যাপারটা কি? ফুসফুসের নিমাণ কৌশল কে সভ্যতাকে সব প্রথম অবগত করিয়েছিলেন ?

রক্ত চলাচল সম্বন্ধে তৎকালীন প্রচলিত গ্যালেনের মতবাদকে ভুল প্রমাণিত করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ১৩শ শতাব্দীর বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন কে ? এসব জিজ্ঞাসার জবাবে যে মুসলিম মনীষীর নাম উচ্চারিত হতে তিনি হলেন আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবুল হাজম ইবনুন নাফিস আল কোরায়েশী আল মিসরী তিনি ইবনুন নাফিস নামেই সবাধিক পরিচিত ।

তিনি ৬০৭ হিজরী মোতাবেক ১২০৮ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন । তার জন্মস্হান দামেস্ক মিসর না সিরিয়া এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে । তবে তার নামের শেষ মিসরী সংযুক্ত থাকায় তিনি মিসরেই জন্মগ্রহণ করেছেন বলে অনেকে মনে করেন ।

ইবনুন নাফিস তার প্রধম জীবন অতিবাহিত করেন দামেস্কে এবং মহাজজিব উদ্দীন আদ দাখওয়ারের নিকট তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এত ব্যুপত্তি লাভ করেন  যে তৎকালীন সময়ে তার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না । তথ্য অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ।

খলিল আসসাকিদি তার ওয়াদি বিল ওয়াকায়াত গন্হে লিখেছেন  ইবনুন নাফিস ছিলেন অতি বিশিষ্ট দক্ষ ইমাম এবং অতি উচ্চ শিক্ষিত বিজ্ঞ হাকিম । মৃত্যুর পূব পযন্ত তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার অবদান সবাধিক ।

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আইন শাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্য লাভের পর তিনি কায়রো গমন করেন এবং সেখানে মাসরুবিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিফাহ (আইন) শাস্ত্রের অধ্যাপক নিযুক্ত হন ।

 ইবনুন নাফিস মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি ফসফুসের সঠিক গঠন পদ্ধতি শ্বাসনালী  হৎপিন্ড ,শরীর শিরা উপশিরায় বায়ু ও রক্তের প্রবাহ ইত্যাদি সম্পকে বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডারকে অবহিত করেন ।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান জগতে তিনি  যে কারনে অমর হয়ে আছেন তা হলো মানবদেহে রক্ত চলাচল সম্পকে গ্যালেনের মতবাদের ভূল ধরিয়ে ছিলেন তিনি এবং এ সম্বন্ধে নিজের মতবাদ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন ।  

 ইবনুন নাফিস তার ইবনে সিনার কানুনের এনাটমি অংশের ভাষা শরহে তসরিহে ইবনে সিনা গ্রন্হ এ মতবাদ প্রকাশ করেন ।তিনি ৫ জায়গায় হৎপিন্ড এবং ফুসফুসের ভিতরে দিয়ে রক্ত চলাচল সম্বন্ধে ইবনে সিনার মত উদ্বৃত করেছেন এবং ইবনে সিনার এ মতবাদ যে গ্যালেনের মতবাদেরই পুনরাবৃত্তি তাও দেখিয়ে দিয়ে’

এ মতবাদের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন । তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে শিরার রক্ত এর দৃশ্য বা অদৃশ্য ছিদ্র দিয়ে ডান দিক থেকে বাম দিকের হদপ্রকোষ্টে চলাচল করে না বরং শিরার রক্ত সব সময়েই ধমনী শিরার ভিতরে দিয়ে বাম ফুসফুসে যেয়ে পৌছায় সেখানে বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে শিরার ধমনীর মধ্য দিয়ে বাম দিকের হৎপ্রকোষ্ঠ যায় এবং সেখানে এ জীবনতেজ গঠন করে ।

তিনি ফুসফুস এবং হপিন্ডের এনাটমি নিয়ে আলোচনা করেন । ইবনে সিনা এ্যারিস্টটলের মতবাদের সাথে একমত হয়ে হৎপিন্ড ৩টি হৎপ্রকোষ্ঠ রয়েছে  বলে যে মত প্রকাশ করেছেন ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *