মেরী কুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মেরী কুরী জন্ম গ্রহণ করেন ১৮৬৭ সালে ৭ই নভেম্বর এব তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই ।

১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর ওয়রশতে মেরীর জন্ম । বাবা ক্লোদোভস্কা ছিলেন কৃষক পরিবারের সন্তান । কিন্তু নিজের চেষ্টার তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করে ওয়ারশ হাইস্কুলে পদাথবিদ্যার অধ্যাপক হন । মেরির মা ছিলেন একটি মেয়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ।

বিজ্ঞানী মেরী কুরী

এছাড়া খুব ভাল পিয়ানো বাজাতেন ।চার বোনের মধ্যে মেরীই ছিলেন সব কনিষ্ঠ । অকস্মৎ তার পরিবারের উপর নেমে এল দুযোগর ঝড় ।যক্ষ্ণারোগে অসুস্হ হয়ে পড়লেন মা ।বিছানা  থেকে উঠতে পারতেন না । ঈশ্বর বোধহয় খুশি হলেন মাকে তার শিশুদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ।

মেরীর বয়স তখন মাত্র দশ । পোল্যান্ড তখন জার শাসিত রাশিয়ার অধিকারে । পোল্যান্ড জুড়ে শুরু হয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন । গোপনে এই আন্দোলনে সহায়তা করবার জণ্য স্কুলের চাকরি হারাতে হল মেরীর বাবাকে । অনেক চেষ্টা করেও অন্য কোথাও চাকরি পেলেন না ।

প্রচণ্ড দ্রারিদ্র্যের মধ্যেও নিজেদের মনোবল হারাননি ক্লোদোভস্কা পরিবার । মেরী কিন্তু তার পড়াশুনায় ছিলেন অসম্ভব মনোযোগী । শুধু নিজের ক্লাস নয় সমগ্র স্কুলের তিনি ছিলেন সেরা ছাত্রী । স্কুলের শেষ পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য স্বণপদক পেলেন ।

কিন্তু অত্যধিক পড়াশুনা চাপে শরীর ভেঙে গিয়েছিল মেরীর ।বাবা আতম্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন । মেরীর পাঠিয়ে দেয়া হল গ্রামের বাড়িতে । দেখতে দেখতে কয়েক মাস কেটে গেল । দেহ মন সতেজ হয়ে ওঠে মেরীর । আবার ওয়ারশ-তে ফিরে এলেন মেরীর ইচ্ছা ছিল ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করবেন ।

কিন্তু কতৃপক্ষ তার অনুরোধ অবজ্ঞা করল । সেই সময় তার বোন প্যারিসের মেডিকেল ভতি হয়েছে । মেরীর ইচ্ছা সেও বোনের সঙ্গে গিয়ে পড়াশুনা করবে ।বড় বোন গেলেন প্যারিসে । তখন একমাত্র প্যারিসেই মেয়েরা ডাক্তারি পড়তে পারত । বোনের পড়ার খরচ মেটাবার জন্য গভনেসের চাকরি  নিলেন মেরী ।

দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গেল । মেরীর বাবার আথিক অবস্হার সামান্য উন্নতি হয়েছে । মেরীর বড় বোন তার এক অধ্যাপককে বিয়ে করেছে । তারা মেরীকে আমন্ত্রণ জানাল প্যারিসে । নিজের সামান্য সঞ্চিত কিছু অথ আর পিতার কাছ থেকে পাওয়া অথ নিয়ে মেরী রওনা হলেন প্যারিসে ।

সেখানে গিয়ে বোনের বাড়িতে ।ভতি হলেন প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয় । অল্প কয়েক মাস যেতেই এক সমস্যা দেখা দিল মেরীর জীবনে  । পড়াশুনার পক্ষে সম্পণ অনুপযুক্ত । বোনের বাড়িতে সারাদিন গানবাজনা বন্ধু-বান্ধবদের আসা-যাওয়া । মেরী স্হির করলেন কলেজের কাছেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকবেন ।

প্রথমে প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেরও শেখ শেষ পযন্ত মেরীর ইচ্ছাকেই মেনে নিলেন তার বোন দুলাই । শুরু হল সাধনা আর সংগ্রাম । আরামের জীবন ত্যাগ করে নিজের খরচ চালাবার দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিলেন । আয় বলতে নিজের সামান্য সঞ্চয় আর বাবার পাঠানো যৎসামান্য অথ সব  মিলিয়ে মাসে ৪০ রুবল ।

শিক্ষকেরা মেরীর কল্পনাশক্তি উদ্যাম ও দক্ষতা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তাকে নতুন নতুন গবেষণা উৎসাহিত করতেন । গভীর আত্নবিশ্বাসে মেরী স্হির করলেন শুধু পদাথবিদ্যা নয় অম্কতেও তিনি ডিগ্রা নেবেন । তার সাধনা ব্যথ হল না ।

তিনি প্রথেম পদাথবিদ্যা (১৮৯৩),পরের বছর অম্কে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম স্হান অধিকার করলেন । এই সময় একদিন পরিচয় হল পিয়ের কুরীর সাথে । পিয়ের ছিলেন  পদাথবিদ্যার অধ্যাপক । কোন নারী নয় বিজ্ঞানই ছিল তার জীবনের আকষণ । একদিন দুজনের দেখা হল এক অধ্যাপকের বাড়িতে ।

তারা দুজন বিজ্ঞান নিয়েই কথাবাতা শুরু করেছিলেন এবং তাদের অজান্তেই পরস্পরের বন্ধু হয়ে যান । পিয়ের মেরীকে তার সাথে কাজ শুরু করলেন (১৮৯৪) । পরের বছর দুজনে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হলেন । সেই সময় পিয়ের স্কুলে অব ফিজিক্সে মাত্র ৫০০ ফ্রাম্ক মাইনে পেতেন । এই অথেই দুজনের সংসার চলত ।

স্বামীর ল্যাবরোটারিতে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটত মেরীর । ফরাসী বৈজ্ঞানিক বেকেরেল একদিন বিরল ধাতু ইউরেনিয়ানের একটি অংশ লবণ দিয়ে পরীক্ষা করবার সময় লক্ষ্য করলের ঐ লবণ থেকে এক প্রকার অদৃশ্য রশ্নি বার হয় যা অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করে যেতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *