রোমান্টিক কবি পার্সি বিশী শেলীর জীবনী

পার্সি বিশী শেলী ১৭৯২ সালের ৪ঠা আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৮ জুলাই ১৮২২ সালে ।

ইংলন্ডের সাজেক্সের অন্তগত ওয়াহহ্যামে পার্সি বিশি শেলি জন্মস্হান। টিমথি শেলীর প্রথম পুত্র পার্সি বিশী শেলীর ছেলেবেলাকার স্মৃতিমধুর ছিল না । ছেলেবেলা থেকে পারিপার্শ্বিক জগৎ থেকে নিজেকে বিছিন্ন করে ফেলেছিলেন তিনি । শেলীর জগৎ ছিল স্বপ্নের এবং কল্পনার ।

পার্সি বিশী শেলী

প্রাথমিক স্কুলের পাঠ শেষ করে ‍তিনি ভর্তি হলেন লন্ডনের সবচে নামী স্কুল ইটনে । কিছুদিনের মধ্যেই তাকে ইটনে ছাড়তে হল কারণ এক সহপাঠীর হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলন তিনি । শেলী ছিলেন অসাধারণ সুন্দর । দশ বছর বয়সে তাকে সিয়ন  এ্যাকাডেমির আবাসিক স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয় ।

আঠারো বছর বয়সে তিনি ভতি হলেন অক্সফোডের কলেজে । ইতিমধ্যে তার রোমান্টিক কবি কল্পনায় শুরু হয়েছে কাব্য রচনা । ১৮১১ সালে শেলী লিখেন The necessity of Atheism ।এই প্রবন্ধ লেখার অপরাধে তাকে কলেজ ছাড়তে হয় । এর বিরদ্ধে শেলীর বন্ধু প্রতিবাদ জানালে তাকেও কলেক থেকে বহিষ্কার করা হয় ।

দুই বন্ধু কলেজ ছেড়ে লন্ডেনের পোলাক স্ট্রীটের এক বাড়িতে এলেন । তার এই দুদিনে এগিয়ে  এলেন তার ছোট বোন ।নিজের সঞ্চায় থেকে ভাইকে নিয়মিত অথ সাহায্য করতে শুরু করলেন । এই অথ তিনি পাঠাতেন তার এক বান্ধবী হ্যারিয়েন্ট ওয়েস্ট ব্রোকের সাহায্যে ।

এই পরিচয়ের সূত্র থেকেই হ্যারিয়েন্টর সাথে সম্পকে গড়ে শেলীর । সে বছরেই দুজনের বিয়ে হয়ে যায় । এ বিবাহে ভালবাসার চেয়ে বেশি ছিল সহানুভূতি । বিয়ের পর দুজনে গেলেন আয়ারল্যান্ড ।শেলীর বয়স তখন উনিশ ।

তিনি আয়াল্যান্ডের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম দেখে খুশী হন । এরপর ফিরে আসেন লন্ডনে । বিয়ের পর দুটি বছর তারা এক সাথে সুখে-শান্তিতে কাঠিয়েছেন ।১৮১২ সালে শেলী রচনা করলেন ‍Queen Mad । এক দীঘ কবিতা  । মধ্যে অপরিণতির ছাপ থাকতে একজন মহৎ কবির আগমন ধ্বনি এতে উচ্চারিত হয়েছে ।

১৮১৩ সালে হ্যারিয়েট একটি কন্যার জন্ম দিল । কুইন মবের নায়িকার নাম অনুসারে তার নাম রাখা হল ইয়ানথি । এর কিছু দিন পর সরকারি আইনের নিয়ম অনুসারে হ্যারিয়েটকে পুনরায় বিবাহ করতে হল । এই বিবাহের পর থেকেই শেলীর জীবনে নেমে এল এক মানসিক অস্হিরতা ।

সংসারের এই অশান্তির মধ্যে শেলীর পরিচয় হল দাশনিক গডউইনের সাথে । গডউইনের Politcal Justice বইটি শেলীর মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল । গডউইনের সাথে প্রথমে চিঠিপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল । তার পর দুজনের পরিচয় হল । গডাউইনের সাথে ছিল তার প্রথম পক্ষের সতেরো বছর বয়সী সুন্দরী কন্যা মেরি ।

শেলীর সাথে গড়ে উঠল তার গোপন প্রণয় । এবং ক্রমশই হ্যারিয়েটের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে আরম্ভ করলেন শেলী । পুত্র সন্তান জন্মের দু বছর পর হ্যারিয়েট আত্নহত্যা করেন। শেলীর জীবনে তখন তার কোন ভুমিকা ছিল না । ১৮১৫ সালে লিখলেন এ্যালাস্টার । অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা এক কাব্য ।

এটি একটি আত্নজীবনীমূলক রচনা। Alastor or the Spirit of solitude প্রকাশের দু মাস পর শেলী জেনিভার গেলেন । সাথে মেরি ও কবি বায়রনের  প্রেমিকা জেনি । তারা জেনেভার পৌছবার অল্পদিনের মধ্যেই বায়রন এলেন সেখানে । দেখা হল দই কবির ।

আগস্ট মাসে শেলী ফিরে এলেন ইংল্যান্ড এসে পরিচয় হল কবি লে হান্টের সাথে । হান্ট ছিলেন তৎকালীন কবিদের প্রধান উৎসাহদাতা । শেলী মেরিক বিয়ে করলেন । এর পর শেলী হাত দিলে প্রমিথিয়াস আনবাউন্ড রচনার কাছে। এর মধ্যে নাটক এবং গীতিকবিতা এক আশ্চয  সংমিশ্রণ ঘটেছে ।

১৮১৮ সালের মাচ মাসে শেলী রওনা হলেন ইটালির পথে । সাথে মেরি জেনি তাদের ছেলেমেয়ে । এই সময়েই রচিত হয় তার জীবনের সমস্ত শ্রেষ্ঠ কবিতা । শেলীর জীবনের শেষ চারটি বছর অতিক্রান্ত হয় ইটালিতে । এই সময়টুকুই তার জীবনের মহত্তম সৃষ্টির কাল ।

ইটালিতে এসে শেলী কোন স্হায়ী বাসা বাধেননি । তার মনে হল তিনি সমগ্র ইটালি পরিভ্রমণ করবেন । বতমানের জগতে থেকে ফিরে যাবেন অতীতের জগতে ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *