সক্রেটিসের জীবন বৃত্তান্ত

সক্রেটিস জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ অব্দে গ্রিসের এথেন্স নগরীতে আর তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্ব ।

দিন শেষ হয়ে গিয়েছিল । দুজন মানুষ তার চেয়েও দ্রুত এগিয়ে চলছিলেন । ঐ আধার নামার আগেই তাদের পৌছতে হবে ডেলফিতে । একজনের নাম চেরেফোন ।মধ্যবয়সী গ্রীক । দুজনের  এসে থামলে ডেলফির বিরাট মন্দির প্রাঙ্গণে ।

সক্রেটিস

সিড়ি বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই মন্দিরের পূজারী এগিয়ে এল । চেরেফোন তার দিকে চেয়ে বললেন আমরা দেবতার কাছে একটি বিষয় জানার জন্য এসেছি । পূজারী বলল আপনারা প্রভু অ্যাপেলের মূতির সামনে গিয়ে নিজেদের পরিচয় দিন আর বলুন আপনারা কি জানতে চান?

কুৎসিত চেহারার মানুষটি প্রথমে এগিয়ে এসে বললেন,আমি সক্রেটিস প্রভু, আমি কিছুই জানি । এবার চেরেফোন নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন হে সবশক্তিমান দেবতা আপনি বলুন গ্রীসের সবশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী কে?

চেরেফোনের কথা শেষ হতেই চারদিক কাপিয়ে আকাশ থেকে এক দৈববাণী ভেসে এল । যে নিজেকে জানে সেই সক্রেটিসের জন্ম (খ্রিস্ট পূব ৪৬৯/৪৬৩) পিতা সফরেনিকাশ (Sopphroniscus) ছিলেন স্হপতি ।পাথরের নানান মূতি পড়তেন । মা ফেনআরেট (Phaenarete) ছিলেন ধাত্রী ।

পিতা মাতা দুজনে দুই পেশায় নিযুক্ত থাকলেও সংসারে অভাব লেগেই থাকত । তাই ছেলেবেলায় পড়াশুনার পরিবতে পাথর কাটার কাজ নিতে হল ।কিন্তু অদম্য জ্ঞানস্পৃহা সক্রেটিসের । যখন যেখানে যেটুকু জানার সুযোগ পান সেইটুকু জ্ঞান সঞ্চয় করেন ।এমনি করেই বেশ কয়েক বছর কেটে গেল ।

একদিন ঘটনাচক্রে পরিচয় হল এক ধনী ব্যক্তির সঙ্গে । তিন সক্রেটিসের ভদ্র ও মধুর আচরণে ,বুদ্ধিদীপ্ত কথাবাতায় মুদ্ধ হয়ে তার পড়াশুনার দায়িত্ব নিলেন । পাথরের কাজ ছেড়ে সক্রেটিস ভর্তি হলে এনাক্সগোরাস (Anaxagoras) নামে এক গুরুর কাছে ।

কিছুদিন পর কোন কারণে এনাক্সগোরাস আদালতে অভিযুক্ত হলে সক্রেটিস আরখ এখলাস এর শিষ্য হলেন । এই সময় গ্রীস দেশ ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল । ফলে নিজেদের মধ্যে মারামারি যুদ্ধবিগ্রহ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত । দেশের প্রতিটি  তরুণ,যুবক,পুরুষদের যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য যেতে হতে ।

সক্রেটিসকেও এথন্সের সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে  এ্যামপিপোলিস অভিযানে যেতে হল ।এই যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য সমস্ত যোগদান করে তার মন ক্রমশই যুদ্ধের প্রতি বিরূপ হয়ে উঠলে । চিরদিনের মত সৈনিকবৃত্তি পরিত্যাগ করে ফিরে এলেন এথেন্সে তখন জ্ঞান-গরিমা ব্যবসা-বাণিজ্য, শৌয্য,বীর্যে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ ।

সাহিত্য সংস্কৃতির এক স্বণযুগ । এই পরিবেশে নিজেকে জ্ঞানের জগৎ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারলেন না সক্রেটিস । তিনি ঠিক করলেন জ্ঞানের চচায়,বিশ্ব প্রকৃতির জানবার সাধনায় নিজেকে উৎসগ করবেন । প্রতিদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে সামান্য প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়লেন । খালি পা গায়ে একটা মোটা কাপড় জড়ানো থাকতে ।

কোনদিন গিয়ে বসতেন নগরের কোন দোকানে মন্দিরের চাতালে কিম্বা বন্ধুর বাড়িতে । নগরের যেখানেই লোকজনের ভিড় সেখানেই খুজে পাওয়া যেত সক্রেটিসকে । প্রাণ খুলে লোকজনের সঙ্গে গল্প করছেন । আড্ডা দিচ্ছেন মাঝে মাঝে প্রশ্ন করছেন নিজে এমন ভাব দেখাতেন যেন কিছুই জানেন না বোঝেন না ।

লোকের কাছ থেকে জানবার জন্যে প্রশ্ন করেছেন । আসলে প্রশ্ন করা তক করা ছিল সে যুগের এক শ্রেণীর লোকদের ব্যবসা । এদের বলা হত সোফিস্ট ।এরা পয়সা নিয়ে বড় বড় কথা বলত ।যারা নিজেদের পান্ডিত্যের অহম্কার করত বীরত্বের বড়াই করত, তিনি সরাসরি জিজ্ঞস করতেন বীরত্ব বলতে তারা কি বোঝো?পান্ডিত্যের স্বরূপ কি ।

তারা যখন কোন কিছু উত্তর দিত তিনি আবার প্রশ্ন করতেন । প্রশ্নের পর প্রশ্ন সাজিয়ে বঝিয়ে দিতেন তাদের ধারণা কত ভ্রান্ত । মিথ্যে অহমিকায় কতখানি ভরপুর হয়ে আছে তারা নিজেদের স্বরূপ এইভাবে উৎঘাটিত হয়ে পড়ায় সক্রেটিসের উপর তারা সকলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠল । কিন্তু সক্রেটিস তাতে সামান্যতম বিচলিত হতেন না ।

নিজের আদশ সত্যের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্হা ।সেই সাথে ছিল অথ সম্পদের প্রতি চরম উদাসীনতা এবার তার বন্ধু এ্যালসিবিয়াদেশ তাকে বাসস্হান তৈরি করবার জন্য বিরাট একখন্ড জমি দিতে চাইলেন । সক্রেটিস বন্ধুর দান ফিরিয়ে দিয়ে সকৌতুকে বললেন আমার প্রয়োজন একটি জুতার আর তুমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *