সঙ্গীতের মহান পুরুষ ত্যাগরাজের জীবনী

ভারতীয় সঙ্গীতের মহান পুরুষ ত্যাগরাজ জন্ম গ্রহন করেন ১৭৬৭ সালে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৮৪৭ সালে।

প্যশ্চাত্য সঙ্গীতের ইতিহাসে যেমন বিঠোফেন মোৎসাটের নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয় ভারতীয় সঙ্গীতের জগতে তেমনি এক মহান পুরুষ ত্যাগরাজ । ভারতীয় সঙ্গীতের অতলান্ত সৌন্দযকে তিনি তুলে ধরেছিলেন সাধারণ মানুষের কাছে ।

সঙ্গীত যন্ত্র

তার জীবনে সঙ্গীত আর ধম মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল । এই সাধক সঙ্গীতশিল্পীর জন্ম দক্ষিণ ভারতের তাঞ্চ্যের জেলার তিরুভারুর নগরে । জন্ম তারিখ ৪ঠা মে ১৭৬৭ সাল ।যদিও জন্ম তারেখ নিয়ে বিতক আছে ।

শোনা যায় ত্যাগরাজের পিতা রাম ব্রক্ষণকে স্বপ্ন দেখা দিয়ে বলেন তিনি খুবই শ্রীঘ্রই একটি পুত্র সন্তানের পিতা হবেন এই পুত্র সঙ্গীত সাহিত্য ক্ষেত্রে মহাকীতিমান হবে । ত্যাগরাজের পিতা রাম ব্রাক্ষণ ছিলেন বিদ্বান ধামিক সৎ মানুষ । ছেলেবেলায় রামনবমী উৎসবের সময় ত্যাগরাজ বাবার সাথে গিয়ে রামায়ণ পড়তেন ।

তাঞ্জোরের রাজা রাম দ্রক্ষণকে খুব শ্রদ্ধা করতেন । তিনি কিছু জমি আর একটি বাড়ি দিয়ে যান । এইটুকুই ছিল তার সম্পত্তি । ত্যাগরাজের মা সীতামামার কণ্ঠস্বর ছিল অপূব । ত্যাগরাজের সঙ্গীতশিক্ষা শুরু হয় তার মায়ের কাছে । সীতামমার ছিলেন সৎ উদার স্নেহশীলা ।

মায়ের এই সব চারিত্রিক গুণগুলি ত্যাগরাজের জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল । ত্যাগরাজের শিক্ষা  গুরু হয় তার পিতার কাছে । প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভতি হলেন তিরুভাইয়ের সংস্কৃত স্কুলে । ছেলেবেলা থেকেই তার মধ্যে ফুটে উঠেছিল কবি প্রতিভা । যখন তিনি ছয় বছরের বালক ঘরের দেওয়ালে প্রথম কবিতা লেখেন ।

তারপর থেকে নিয়মিতভাবেই তিনি কবিতা রচনা করতেন । এই সব কবিতাগুলির মধ্যে শিশুসুলভ সরলতা থাকতেও তার প্রতিভার প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় । স্হানীয় কয়েকজন পণ্ডিত ত্যাগরাজের কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিল । বাবা যখন ভজন গাইতেন তিনিও তার সাথে যোগ দিতেন ।

অন্য সব গানের চেয়ে ভজন তাকে বেশি আকৃষ্ট করত ।এই সময় তিনিও তার সাথে যোগ দুটি ভজন রচনা করেন । নমো নমো রাঘবায় ও তব দাসোহম এই দুটি ভজন পরবতীকালে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল । ত্যাগরাজের বাবা প্রতিদিন সকালে পূজা করতেন ।

তার পূজার ফুল  আনবার জন্য ত্যাগরাজ কিছুদূরে একটি বাগানে যেতেন । পথের ধারে সেন্টি বেম্কটরমানাইয়ারের বাড়ি । বেম্কটরমনাইয়ার ছিলেন নামকরা সঙ্গীর শুরু । বাড়িতে নিয়মিত ছাএদের সঙ্গীত শিক্ষা দিতেন । ত্যাগরাজ বেম্কটরমনাইয়ার বাড়ির সামনে এলেই দাড়িয়ে পড়তেন ।

গভীর মনোযোগ সহকারে তার গান শুনতেন । একদিন রাম ব্রক্ষণের ব্যাপারটি নজরে পড়ল । তিনি বেম্কটরমনাইয়ের উপর ছেলের সঙ্গীতশিক্ষার ভার দিলেন । সঙ্গীত ত্যাগরাজের ছিল স্বভাবসিদ্ধ প্রতিভা । অল্পদিনের মধ্যেই শুরুর যা কিছু বিদ্যা ছিল তা আত্নাস্হ করে নিলেন ।

ত্যাগরাজের শৈশব কৈশোর কেটেছিল সঙ্গীত ও সাহিত্য শিক্ষার পরিবেশের মধ্যে বাবা মায়ের কাছে একদিন তেমনি সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা  করতেন বাবার সাথে । মহাকাব্য পুরাণ সঙ্গীত বিষয়ক বিভিন্ন রচনার সাথে অল্প রয়সেই পরিচিত হয়ে ওঠেন উত্তরকালে সঙ্গীত বিষয়ে যে সব রচনা প্রকাশ করেছিলেন প্রথম জীবনেই তার ভিত্তি স্হাপিত হয়েছিল ।

সে যুগের সঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গীত শাস্ত্র সম্বন্ধে কোন জ্ঞান ছিল না । তাই তাদের গানের মধ্যে নানান ব্যাকরণগত ভুল ক্রটি লক্ষ্য করা যেত । ত্যাগরাজ প্রথমে রাগসঙ্গীত কে সুনিদিষ্ট নিয়মের মধ্যে চালিত করে সঠিক পথে নিয়ে আসেন । ত্যাগরাজের পিতার আথিক অবস্হা ভাল  ছিল না ।

তাই উত্তাধিকারসূত্রে বাড়ির অংশ ছাড়া আর কিছুই পাননি । কিন্তু তার জন্যে ত্যাগরাজের জীবনে কোন ক্ষোত্র ছিল না । প্রকৃতপক্ষে তার জীবন ছির সহজ সরল মহৎ আদশের সেবায় উৎসাগীকৃত । নিজের সংসারের ও শিষ্যদের ভরণপোষণর জন্য সামান্য কিছু জমি আর ভিক্ষাবৃত্তির উপরেই প্রধানত নিভরশীল ছিলেন ।

১৮ বছর বয়সে ত্যাগরাজের বিবাহ হয় । স্ত্রী ছিলেন ত্যাগরাজের যোগ্য সহধমিণী । ত্যাগরাজের খ্যতির কথা শুনে তাঞ্জোবের মহারাজ্য তাকে নিজের সভাগায়ক হিসাবে আমন্ত্রণ জানান । দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোর সঙ্গীতের ইতিহাস এক উল্লেখযোগ্য স্হান ।

বহু মহান সঙ্গীত শিল্পী এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । প্রায় তিনশো বছর (১৬০০-১৯০০) ধরে তাঞ্জোর ছিল সঙ্গীতের পীঠস্হান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *